শামায়েল ﷺ — শারীরিক বৈশিষ্ট্য
তার সার্বিক বর্ণনা ﷺ — হাদিস: হিন্দ বিন আবী হালা
হিন্দ বিন আবী হালা রাদিয়াল্লাহু আনহু — তিনি ছিলেন বর্ণনাকারী — এবং শব্দটি তিরমিজীর 'শামায়েল'-এ বিসানাদি হাসান: «রাসূলুল্লাহ ﷺ ছিলেন ফখ্বান (মর্যাদাপূর্ণ ও প্রশংসিত), তাঁর মুখ ঝলমলে, পূর্ণিমার চাঁদের মতো দীপ্ত; কদে মাঝারি—'মরবু' থেকে খানিকটা লম্বা ও 'মাশযাব' থেকে খানিকটা ছোট; گستক (মাথা/মস্তক) বিশাল মর্যাদাসম্পন্ন; চুলের ধরনে 'রজিল' — না লম্বা বিস্তার করা, না গুলোয়ানো, বরং মাঝারি ঢেউখেলানো; যদি তাঁর চুল আলগা হয়ে পড়ত তবে আলাদা আলাদা, নইলে চুল তার কানপাখার লম্বাই অতিক্রম করত না যখন তিনি তা ছেড়ে দিতেন; রঙ উজ্জ্বল ফর্সা, কপাল প্রশস্ত; ভ্রুসমূহ ঘন ও পরিমিত, কোনও অতিরিক্ত কোণ ছাড়া; ভ্রুর দুপাশে গর্জনের মতো শিরা থাকে যা ক্রোধে ফুলে ওঠে; নাকের দুপাশে উজ্জ্বল আলো, যা অমন কেউ যিনি তা ভালো করে না দেখে মনে করে তা সুগন্ধি; দাড়ি ঘনপেঁচানো; গাল সরাসরি মসৃণ; মুখ প্রশস্ত ও সরল; নাকের পাশ অল্প নকশা; দাঁতগুলো মাঝে কিছুটা পৃথক; বুকে ছড়ানো পাতলা এক রেখার চুল; তাঁর গলা যেন মুন্নতর সোনার মতো খাঁটি রূপে সুন্দরতা প্রদর্শন করেছে।»
- ফখ্হামা মফাখ্খামা — মানে: সম্মানিত ও সুমহৎ রূপে মনের মধ্যে গৌরব সৃষ্টি করা
- মুখটি পূর্ণিমার চাঁদের মতো ঝলমলে — সৌন্দর্য ও আলোর দীপ্তি বোঝাতে
- মরবু থেকে লম্বা ও মাশযাব থেকে ছোট — পরিমিত, বরকতময় কদ
- রজিল চুল — না লম্বা ছড়ানো, না কাটা চুল; মাঝারি ঢেউখেলানো
- আজহার রং — উজ্জ্বল ফর্সা, লালিমা আর উজ্জ্বলতা মিশে
- আকনা আলআরনাইন — মহান নাকের গঠন: উত্থান ও সৌন্দর্য
- কথু লিহযা — দাড়ি ঘনীভূত ও পরিপূর্ণ, কোনোকিছুতে ঘুরে নেই
- দিলি ফাম — প্রশস্ত ও আরামদায়ক সম্মানিত মুখ, যার মধ্যে ফাচণ ও বর্ণনার ইঙ্গিত
- আশনাব, মুফল্লাজ আসনান — দাঁত শুভ্র, মাঝে সামান্য ফাঁক
- দাকীকাল-মাসরুবা — বক্ষ এবং নাভির মধ্যে পাতলা চুলের রেখা
হিন্দ বিন আবী হালার শরীরের বাকি বর্ণনা
হিন্দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: «শরীরিক গঠনে পরিমিত, মেরুদণ্ড দৃঢ় ও সুসংহত; পেট ও বক্ষ সমতল; বক্ষ প্রশস্ত; কধের মধ্যে ফাঁক বড়; কাঁধ শক্ত ও প্রশস্ত; পেশীগুলো বিশাল; যখন তাঁর শরীর প্রকাশ পেত তখন উজ্জ্বল আলো ছড়াত; বুক ও নাভির মাঝখানে লম্বা একটি রেখার মতো চুল যা তাঁর শরীরকে যুক্ত রাখে; স্তন ও পেট ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশ নগ্ন প্রায়; বাহু, কাঁধ এবং বুকের উপরের অংশে চুল ঝরানো বা সাজানো; পূর্ববাম্স দীর্ঘ; কনুই বড় এবং প্রশস্ত; অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি সুষম; পায়ের তালুতে দুটো ঘাঁটু মত অভাব (খুমসান); পায়ের ভেতর থেকে জল ওয়েব না হয় — পানির ধারা বেরিয়ে আসে।»
- বক্ষ প্রশস্ত — সম্মানিত হৃদয় ও উদারতা নির্দেশ করে
- কাঁধের মধ্যে বড় ফাঁক — প্রশস্ত ও মহান কাঁধ
- অনওর আল-মুতজাররিদ — যখন দেহ প্রকাশ পায় তখন উজ্জ্বল দীপ্তি
- খুমসান আলআখ্মাসেইন — পায়ের তালু সংরচিত আচরণ (তলার খাঁজ থাকা)
- মাসীহ আলকাদামেইন — পায়ের রেখা মাঝখানে উত্কীর্ণ নয়, ফলে জল বের হতে পারে
- শিসন আলকাফাইনে — হাতের মাংসপেশি পূর্ণ ও নরম না কঠোর
আলি বিন আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনা
আলি বিন আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: «তিনি ﷺ না অত্যন্ত লম্বা ছিলেন, না অত্যন্ত খুদ; কায়া ছিল মাঝারি—তিনি ছিলেন 'রুব'ে মোকাবিলার লোক। তিনি ছিল না কনকনানো কুঁচকানো কেশ, না অত্যন্ত মসৃণ ঢাকা; তাঁর চুল জুমলা রজিল ধরনের ছিল। তিনি ছিলেন না মটাহাম না মুকলতম; তাঁর মুখে কিছুটা গোলাকৃতি আকৃতি ছিল; রঙ মিশ্রিত ফর্সা লালিমা সহ; চোখের কোরা গভীর কালো; ল্যাশগুলো দীর্ঘ ও সুন্দর; চেহারায় মহিমা ও গম্ভীরতা; বক্ষতল কাঁটার মতো ছাড়া; তিনি ছিল একজন যার কাঁধে নবুওয়াতের আঙ্গুল — অর্থাৎ নবীদের শেষ ছাপ» — যা তিরমিজী 'শামায়েল'-এ বর্ণিত।
- রুব'আতুন মিন আলকাউম — সাধারণত মাঝারি উচ্চতার, না লম্বা না খুদ
- রজিল কেশ — সুন্দর ঢেউখেলানো চুল, না কুঁচকানো না ঝুলন্ত
- মুখে তাদুইর ও ইস্তিদকাক — মোটামুটি গোলাকৃতি না একেবারে লম্বা
- আব্য়াদু মশরাবু হামরাতিন — স্পষ্ট সাদা রঙ মুখে ও গুপ্তরূপে লালিমা
- আদ'জ আল-আ'য়নাইন — চোখের কোরা গভীর কালো
- আহদব আল-অশ্যফার — ল্যাশগুলো দীর্ঘ ও সুন্দর
- যখন তিনি হেঁটে যেতেন তকফুআ' তো মনে হতো কোনো ভার পড়ছে — আত্মবিশ্বাসী ও গম্ভীর ঢঙ