আল-কুরআনুল কারীম
আল-কুরআনুল কারীম হলো মহান আল্লাহ তা‘আলার বাণী, যা তিনি তাঁর নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উপর নাযিল করেছেন। এটি মুসলিমদের জন্য জীবনবিধান, তাদের প্রমাণ এবং হিদায়াতের উৎস। এটি তেইশ বছর ধরে আরবি ভাষায় নাযিল হয়েছে এবং পৃথিবীর সকল প্রান্তে হাফেজদের হৃদয়ে ও মাসহাফের পাতায় সম্পূর্ণরূপে সংরক্ষিত আছে।
পবিত্র কুরআন হলো নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর চিরন্তন মু‘জিযা। এটি আল্লাহর সেই বাণী, যার মাধ্যমে তিনি মানুষ ও জিন জাতিকে এর মতো কিছু রচনা করে আনার জন্য চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, কিন্তু তারা অক্ষম হয়েছিল। আর সেই চ্যালেঞ্জ আজও বিদ্যমান। এর অলৌকিকত্ব কেবল একটি দিকে সীমাবদ্ধ নয়, যেমন—এর ভাষাশৈলী বা গায়েবের সংবাদ দেওয়া। বরং এর অলৌকিকত্ব সার্বিক; এর গঠন, বিধান এবং এর মাঝে থাকা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ইশারা, যা প্রত্যেক যুগের অনুসন্ধানী গবেষকই কেবল উপলব্ধি করতে পারে।
কুরআন কোনো মানুষের রচিত গ্রন্থ নয়। কীভাবে একজন নিরক্ষর ব্যক্তি, যিনি সভ্যতার কেন্দ্র ও বিভিন্ন জাতির দর্শন থেকে বিচ্ছিন্ন এক মরুভূমির পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন, তিনি এমন একটি কিতাব নিয়ে আসতে পারেন, যাতে রয়েছে সর্বোচ্চ মানের বিধান এবং গভীরতম সত্য? ইতিহাসে অনেক প্রতিভাবান ব্যক্তি হয়তো তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ কিছু করেছেন, কিন্তু তাদের শ্রেষ্ঠত্বের একটি সীমা আছে। অন্যদিকে, কুরআন এক অফুরন্ত উৎস, যেখানে প্রত্যেক জ্ঞানী ও বিদ্বান ব্যক্তি তার নিজ নিজ শাস্ত্র অনুযায়ী বিষয়বস্তু খুঁজে পায় এবং এ প্রমাণ লাভ করে যে, এটি এক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত।
মুসলিমরা আল্লাহর নাযিলকৃত সকল কিতাবে বিশ্বাস করে, যেমন ইবরাহীম ও মূসা (আলাইহিমুস সালাম)-এর সহীফা, দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর যাবুর এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ইঞ্জিল। কিন্তু কুরআন হলো ঐ কিতাবগুলোর ওপর তত্ত্বাবধায়ক ও সত্যতা নিরূপণকারী; সেগুলোর যে অংশ কুরআনের সাথে মেলে, তা-ই প্রতিষ্ঠিত সত্য, আর যা এর বিপরীত, তা বিকৃতির শিকার হয়েছে। আমরা সকল নবীকে সম্মান করি এবং তাঁদের রিসালাতের কদর করি, কিন্তু আমরা পবিত্র কুরআনকেই অনুসরণ করি। কারণ এটিই সেই মানদণ্ড, যা দিয়ে আমরা সকল সংবাদকে যাচাই করি এবং আল্লাহর পথে অবিচল থাকি।
القرآن الكريم هو كلام الله تعالى المنزَّل على نبيه محمد ﷺ، وهو دستور المسلمين وحجتهم ومصدر هدايتهم. نزل بالعربية على مدى ثلاثة وعشرين عامًا، ويُحفظ نصّه كاملًا في صدور الحفاظ وبين دفتي المصاحف في كل بقاع الأرض.
القرآن الكريم هو المعجزة الخالدة للنبي محمد ﷺ، وهو كلام الله الذي تحدى به الإنس والجن أن يأتوا بمثله فعجزوا، ولا يزال التحدي قائماً. ومصدر إعجازه ليس جانباً واحداً كالبلاغة أو الإخبار بالمغيبات فحسب، بل هو إعجاز كلي في نظمه وتشريعه وما يحويه من إشارات علمية لا يدركها إلا الدارس المتفحص في كل عصر.
لم يكن القرآن من تأليف بشر، فكيف يتسنى لرجل أمي نشأ في بيئة صحراوية منعزلة عن مراكز الحضارة وفلسفات الأمم أن يأتي بكتاب يحوي أرقى التشريعات وأعمق الحقائق؟ إن العباقرة في التاريخ قد يبدعون في فنونهم، لكن سبقهم له حدود، بينما القرآن يظل معيناً لا ينضب، يجد فيه كل عالم وأديب ما يوافق تخصصه ودليلاً على أنه تنزيل من حكيم خبير.
يؤمن المسلمون بكتب الله المنزلة، كصحف إبراهيم وموسى، وزبور داود، وإنجيل عيسى عليهم السلام، ولكن القرآن هو المهيمن على تلك الكتب؛ فما وافقه منها فهو الحق الثابت، وما خالفه فهو مما دخله التحريف. نحن نحترم جميع الأنبياء ونقدر رسالاتهم، لكننا نتبع القرآن الكريم بصفته الميزان الذي نزن به الأخبار ونستقيم به على منهج الله.